জামের বিচির উপকারিতা ও অপকারিতা
পেজ সুচিপত্রঃ
জাম পছন্দ করেন না এমন মানুষ নাই বল্লেই চলে। উপকারী এই ফল আমাদের শরীরের
নানাভাবে কাজ করে। অনেক ধরনের জিনিস আছে যার উপকার সম্পর্কে আমরা অবগত নয়। জাম
খাওয়ার পর এর বীজ আমরা ফেলে দেই। কিন্তু আপনি জানলে আবাক হবেন এটি আমাদের জন্য
কতটা উপকারী হতে পারে। জদি আমরা এটটার সম্পকে জানতাম তাহলে কখনোই এটি ফলে নষ্ট
করতাম না। এবং আমাদের জীবনে অনেক উপকারে আসতো এবং অনেক কঠিন রোগ থেকে সহজে মুক্তি
পেতাম। আল্লাহ প্রদত্ত সৃষ্টি সবকিছুতেই কিছু না কিছু গুনাগুন থাকে। যা আমাদের
অনেক রোগ থেকে মুক্তি দিতে পারে। এর মধ্যে জামের বীজ হতে পারে একটি উপকরণ।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কাজ করে
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে খেতে পারেন জামের বীজ। সেজন্য বীজ গুড়া করে
নিতে হবে। প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস পানিতে এক চা চামচ জামের বীজের গুঁড়ো
মিশিয়ে খেয়ে নিবেন। ডায়াবেটিসের প্রধান কারণ হচ্ছে সুগার লেভেল। আর এটি যদি
কোন ফলের বীজের মাধ্যমে কমানো যায় ভালো হয় তাই না! জামের বীজ নিয়মিত খেলে
আপনার দায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে আপনি উপহার পেতে পারেন একটি সুন্দর
সুস্থ জীবন । জামের বীজ রক্তে সুগার আর মাত্রা কমাই এবং ডাাবেটিস
নিয়ন্ত্রনে কাজ করে ।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
আমরা সবাই চাই আমাদের একটি সুস্থ সুন্দর জীবন। কে চায়না বলুন তার একটু সুস্থ
জীবন থাকবে। সবাই চাই একটি রোগ বিহীন সুস্থ জীবন। তার জন্য আমাদের শরীরে রোগ
প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে। আর এটি একটি মাধ্যম হতে পারে জামের বীজ। রোগ
প্রতিরোধ ক্ষমতা কার্যকরী থাকলো তা বিভিন্ন ধরনের সংক্রামক অসুখ থেকে শরীরকে
দূরে রাখে। ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ফাঙ্গাসের মতো জীবাণু তখন আর আক্রমণ করতে পারে
না। তাই সুস্থ থাকার জন্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো জরুরী। নিয়মিত জামের বীজ
খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। প্রতিদিন সকালে জামের বীজের গুড়া
মেশানো পানি পান করলে উপকার পাবেন।
উচ্চ রক্তচাপ দূরে রাখে
উচ্চ রক্তচাপ আমাদের শরীরের জন্য অনেক ক্ষতিকর। আরে উচ্চ রক্তচাপ দূরে রাখতে
চাইলে খাবারের বিষয়ে সচেতন হতে হবে। এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তা
কিড়নি, হার্ট, চোখ সহ বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে যা আপনার
কল্পনারও বাহিরে। উচ্চ রক্তচাপ কমাতে জামের বীজ আমাদের সাহায্য করতে পারে। কারন
আমরা আগেই জেনেছি যে জামিল বীজের গুরু রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে অনেক সাহায্য
করে। ইতি উচ্চ রক্তচাপ কমানোর পাশাপাশি হৃদপিণ্ড ভালো রাখতে সহায়তা করে।
জামের বীজের উপকারিতা
জামের বীজে জাম্বোলিন এবং জাম্বোসিন নামক যৌগ থাকে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা
নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। এই যৌগ ইনসুলিন হরমোনের ক্ষরন বাড়ায়। এই ফলের বীজ
ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ কমাতেও সহায়তা করে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য জামের বীজ এক
অপরিহার্য খাবার, কারণ জামের বিচিতে রয়েছে জ্যাম্বোলিন উপাদান। যা রক্তে
থাকা শর্করার মাত্রা কমিয়ে স্বাভাবিক রাখে।এজন্য জামের বিচি ডায়াবেটিস
নিয়ন্ত্রণ সহায়তা করে।
জামের বীজের অপকারিতা
সব কিছুর ভালো এবং খারাপ দিক আছে তেমনি জামের বীজেরো কিছু অপকারিতা রয়েছে।জামে
এলার্জি বৃদ্ধি হয় এমন উপাদান আছে। তাই জাম খাওয়ার ফলে অনেকের চুলকানি,
শ্বাসকষ্ট ও অন্য সমস্যা হতে পারে। জামে আয়রন থাকে যা আমাদের সাস্থের জন্য অনেক
ভালো উপাদান। তবে অতিরিক্ত গ্রহনের ফলে আমাদের হার্ট এবং যকৃতের ক্ষতি সাধন করতে
পারে। গর্ভবতী মহিলাদের জন্য জামের বিচি ক্ষতিকর। গর্ব অবস্থায় জামে বেশি খেলে
অকাল গর্ভপাত এবং মহিলাদের দুধ বৃদ্ধিতে বাধা দেয়। জামের বিচি বেসি খেলে
মাথা ব্যথা,পেট ব্যথা সহ নানা অসুস্থতার কারন হতে পারে।
আমরা জানবোর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url